1. smsitservice007gmail.com : admin :
ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না'কি বিদ্রোহ? - সতেজ বার্তা ২৪
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২২ অপরাহ্ন
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ? সাভারে মাদকের সয়লব , এক নজরে মাদক গ্যাং রাজশাহী আওয়ামী  প্রকাশ্যে বিভক্তির আভাস দায়ী কে ? তানোরে ৩টি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ভোলার লালমোহন উপজেলার ৭নং পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী তরুন মেধাবী যুবনেতা সাইফুল ইসলাম শাকিল তানোরে প্রবেশপত্র আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় ফিল্ম স্টাইলে কুপিয়ে দানিয়াল নামের এক যুবককে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা..! তানোরে দোকানের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা ২০ বছর পাড় হয়নি ধর্ষন, মাদক সহ ২৪টি মামার আসামি ইয়াবা সুন্দরীর ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার তানভীরের. রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে এক ডজন নেত্রী আলোচনায় মর্জিনা

ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪
  • ৩২ বার পঠিত

ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ

সাভারের ইতিহাসে সর্বাধিক বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা কি হঠাৎ করেই ডিগবাজি দিলেন নাকি রীতিমতো বিদ্রোহ করে চোখ রাঙ্গাচ্ছেন তার একসময়ের “অভিভাবক” রাজীবকে?

এমন প্রশ্নই এখন মানুষের মুখে মুখে। সাভারে হকার উচ্ছেদ নিয়ে যখন তোলপাড় তখন নিরবে ঘটে গেছে “উচ্ছেদের” আরেক মর্মান্তিক ঘটনা।

সাভার উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সামনে। সেই নির্বাচনের প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব। নিজের ইমেজ ভোটারদের কাছে ঠিকঠাক রাখতে এখন চাঁদাবাজ – সন্ত্রাসী থেকে দূরত্ব রচনা করেছেন তিনি।

সেই ধারাবাহিকতায় আতিকের সঙ্গে আপাতত বিচ্ছেদ চলছে রাজীবের। রাজীব তার নির্বাচন কেন্দ্রিক কোন কর্মসূচিতেই আতিককে সম্পৃক্ত করেননি। আবার আতিক ও বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এক সময়ের “অভিভাবক” রাজীবের ছবি।

কথায় বলে,সময় যখন খারাপ যায়, তখন সাদা কাপড় থেকেও রং ওঠে। আসলেই তাই। এখন সময় খারাপ সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের এই বুড়ো নেতার। বুড়ো বললাম এই কারণে, আতিকের বয়স ৩১। বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। এই বয়সে তার সন্তানদের যেখানে ছাত্রলীগ করার কথা সেখানে নিজেই আঁকড়ে আছেন সভাপতির পদ।

৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে আতিকের। একের পর এক বহিষ্কৃত এই নেতা একসাথে দুই নৌকায় পা দিয়ে আট বছর বেশ ভালোই ছিলেন। মালিক হয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের। বিপরীতে খুইয়েছেন নিজের মান,সম্মান এবং ইমেজ।

স্বঘোষিত অভিভাবক রাজীবের নৌকায় এক ঠ্যাং অন্যদিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমানের নৌকায় এক ঠ্যাং দিয়ে চলার কৌশল কাজে লাগিয়ে দিব্যি চালিয়েছেন নিজের রাজত্ব।

এখন কি হলো? কেন আতিককে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করলেন মঞ্জুরুল আলম রাজিব?

উত্তর সোজা। আতিকের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোন দায় আর নিতে চান না তিনি। আতিকের পঙ্কিল কাঁদা গায়ে লাগুক সেটা চান না রাজীব। তবে জনশ্রুতি ভিন্ন। সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গীকার নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হয়ে আসা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রেসক্রিপশনেই নাকি আতিক এখন সাভারের রাজনীতির আকাশ থেকে পতিত।

আতিকের বিরুদ্ধে রয়েছে, সাংবাদিকদের হুমকি, জালিয়াতি, সন্ত্রাস, জমি দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, লুটপাট, পদ বাণিজ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান ডিআইজি হারুন-অর-রশিদের ছোটভাই গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরসহ নানা অভিযোগ।

কোথায় ছিল না এই আতিক। ঘরের মানুষ হিসেবে রাজীবের শোডাউন থেকে শুরু করে তার তর্জনগর্জন – সব কিছু ঘিরেই চলতো আতিকের রাজত্ব।

সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ সহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে আতিক যতবার বহিস্কৃত হয়েছে ততবারই পদ ফিরে পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রীর কৃপায়।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর আতিক তাকে নিয়ে অনেক মায়া কান্না কেঁদেছেন কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সর্বশেষ সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে মাশব্যাপী ইফতার বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে আবার প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করেন আতিক।

নিজের ফেসবুকের পোষ্ট করা সেই পোস্টারে অতীতের অভিভাবকের স্থান থেকে সরিয়ে দেয়া হয় রাজিবের ছবি। সেখানে স্থান দিতে দেখা গেছে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছবি।

তবে ইতিহাস কি নির্মম! সেই ছবির স্থায়ীত্ব ছিলো নিতান্তই সাময়িক।

ডা মোঃ এনামুর রহমানের ছবি জুড়ে দেয়া নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তখন সেই ছবিও নামিয়ে ফেলেন আতিক।

নামের স্থলের প্রতিস্থাপিত হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি। যদিও
সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কাছে আতিক এখন বোঝা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের কাছেও এক অর্থে আতিত পতিত, অগ্ৰহণযোগ্য।

এভাবে রাজীবকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে আতিক কি বোঝাতে চাচ্ছেন? নাকি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তার সাবেক অভিভাবকের দিকে-
সেই প্রশ্নই এখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আতিকের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্ত নেতাকর্মীরা। কারণ সাভারে ছাত্রলীগের সূতিকাগার বলতেই এক সাথে উচ্চারিত হয় রাজীব- সমরের কথা।

তাই গুটিকয়েক অনুগত ছাড়া আতিককে‌ এড়িয়ে চলেছে চলছে ছাত্রলীগের বড় একটা অংশ।

তাহলে আতিকের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কি?

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে নয়া সংসদ সদস্যের বিরাগভাজন এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের অবিশ্বস্ত এবং অনাস্থায় থেকে আতিক রাজনীতিতে কতটা পথ অগ্রসর হতে পারবেন সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

রাজীব আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করায় এখন আতিকের আশ্রয় ডা.এনাম।শোচনীয় পরাজয়ের পর নিজেই বিপর্যস্ত ডা. এনাম। তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

তিনি আতিককে কতটা শেল্টার দিতে পারবেন কিংবা রাজীবের বাইরে গিয়ে আদৌ আতিককে শেল্টার দেবেন কি’না সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

এসব প্রশ্নের মধ্যেই দেখা গেল আতিক ডা. এনামের ছবিও নামিয়ে দিয়েছেন পোষ্টার থেকে। আফসোস!

এসব কর্মকাণ্ডে বোঝা যাচ্ছে আতিক মানসিকভাবে স্থির নন। দিশাহীন, অসুস্থ।

সাভারে ছাত্র রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে প্রথমত ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে হলে আতিককে প্রমাণ করতে হবে তিনি অবিবাহিত এবং নিজের কোন সন্তান নেই।

যদিও তার স্বামীত্ব এবং পিতৃত্ব – এই দুই পরিচয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে বলে বেড়ান তাঁরই অনুগত কর্মীরা। তাদের একটি অংশ চান না আতিকের মত বিতর্কিত নেতা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকুক।

আবার জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার বিষয় আতিকের যে খায়েশ ছিল আগামীতে সেটা কতটুকু পূরণ হবে তা নিয়েও রয়েছে ঘোর সংশয়।

সন্ত্রাসী কার্যকলাপের এত এত আমলনামা আর এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বলয়ের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করা – আতিকের জন্য চ্যালেঞ্জই‌ বটে।

তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। রাজিব পুনরায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হচ্ছেন- বিএনপি না এলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পূর্বাভাস দিনের আলোর মত স্পষ্ট।

রাজীব পুণরায় নির্বাচিত হলে আবার আতিক আগের স্থানে ফিরবেন- এমন আশায় দিন গুনছেন আতিকের অনুসারীরা।

কিন্তু খোদ রাজীবের বিরুদ্ধে আতিকের এই বিদ্রোহ এবং চোখ রাঙ্গানি কি মেনে নেবে রাজীব কিংবা তার অনুগত ছাত্রলীগের অন্য অংশ নেতারা?

রাজীবের চরিত্র সেটা ইঙ্গিত দেয় না। কারণ প্রকৃতি কখনো শূন্যস্থান রাখে না। আতিকের মত আরেকজন নেতা তৈরি করা যেখানে রাজীবের কাছে এক তুড়িতেই সম্ভব।

জেলা ছাত্রলীগের একজন নেতা আতিকের এমন অধঃপতনে বিশ্ব প্রকাশ করে বলেন, এটাই তো স্বাভাবিক। ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি এমনই হয়।

আতিক আবার বিশ্বাসঘাতকতা করলো কার সঙ্গে?
কার আবার? রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে। যে রাজিব না থাকলে আতিকের কোন অস্তিত্ব থাকত না। পদ পরিবর্তন আর কৌশলগত রাজনীতির কারণে আতিককে যে স্যাংশন দেওয়া হয়েছিল তা হয়তো একসময় তুলে নেয়া হতো।

এ সময়টাতে আতিককে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবেলা করাটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সেটা না করে বরং সে এখন পাঙ্গা নাই রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে। তার ছবি বাদ দিয়ে সে ছাত্রলীগের ইফতারের আয়োজন করে! এই দুঃসাহসের মূল্য ১০ জনের প্রস্তুত রাজীব সৈনিকরা।

আসলেই ওয়ান্স এ বিট্রেয়ার ইজ অলোয়েজ বিট্রেয়ার। সে নিমকহারাম বিশ্বাসঘাতক বেইমান- ক্ষোভ ঝাড়েন জেলা ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইচ্ছুক শীর্ষ এক নেতা।

আতিকের দশা এখন না ঘরকা না ঘটকা।
মিডিয়ার প্রকাশিত তার সম্পদের পাহাড় রক্ষায় অপ-রাজনীতির তো বিকল্প নেই। কারণ রাজনীতি করতে হলে যে সততা ও ত্যাগ থাকতে হয় তা আতিকের নেই।

রাজীব সাম্রাজ্যে আপাত:নির্বাসিত আতিক এখন কি করবে?

সংগীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার গান “পরাণের বান্ধবরে বান্ধব বুড়ি হইলাম তর কারনে” শুনবে নাকি দীর্ঘদিনের আড়াল ভেঙে?

বউ-বাচ্চাকে সময় দেবে? নাকি রাজীবের ছবির স্থলে ডা.এনামের ছবি একবার ওঠাবে আবার নামাবে??

এ জাতীয় আরও খবর
Translate »