1. smsitservice007gmail.com : admin :
রাজশাহী-১ আসনে শীতের আমেজ রাজনীতিতেও টের পাওয়া যাচ্ছে - সতেজ বার্তা ২৪
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১২ অপরাহ্ন
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ? সাভারে মাদকের সয়লব , এক নজরে মাদক গ্যাং রাজশাহী আওয়ামী  প্রকাশ্যে বিভক্তির আভাস দায়ী কে ? তানোরে ৩টি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ভোলার লালমোহন উপজেলার ৭নং পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী তরুন মেধাবী যুবনেতা সাইফুল ইসলাম শাকিল তানোরে প্রবেশপত্র আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় ফিল্ম স্টাইলে কুপিয়ে দানিয়াল নামের এক যুবককে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা..! তানোরে দোকানের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা ২০ বছর পাড় হয়নি ধর্ষন, মাদক সহ ২৪টি মামার আসামি ইয়াবা সুন্দরীর ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার তানভীরের. রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে এক ডজন নেত্রী আলোচনায় মর্জিনা

রাজশাহী-১ আসনে শীতের আমেজ রাজনীতিতেও টের পাওয়া যাচ্ছে

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৯৬ বার পঠিত

 

রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে শীতের আমেজ রাজনীতিতেও টের পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন পরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। একদিকে শীতের আমেজ, অন্যদিকে নির্বাচনের উত্তেজনার পারদ- এ দুই মিলে সাধারণ মানুষের কাছে দিনগুলো হয়ে উঠেছে অন্যরকম। ‘ভাই, দুধ-চিনি বাড়িয়ে ডবল হিটের এক কাপ চা। টিভি থাকলে টিভিতে খবরের চ্যানেল ধরেন। নির্বাচনের খোঁজখবর দেখি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিয়ে আবার বলেছে স্বতন্ত্র হয়েও নির্বাচন করা যাবে। মনে হচ্ছে, এবার নির্বাচন জমবে।’ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কামারগাঁ ইউপির মালার মোড়ে ‘ আইয়ুব-আব্দুলের চায়ের দোকানে বসে কথাগুলো বলেন, মোহনপুর উপজেলার ধুরইল এলাকার আলুচাষি নুরুল ইসলাম। এরপর সেখানে আগে থেকে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠেন তিনি। তার মতো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অবসর সময়টায় চায়ের দোকানের আড্ডায় হাজির হয়ে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠছেন। ভোটে কার জনপ্রিয়তা কেমন, তা যাচাই করতে সহজ একটি উপায় চায়ের দোকানে হাজির হওয়া। কারণ সব পেশার মানুষ বসেন চায়ের দোকানে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মেলান ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন মাঠে কৃষি কাজে ব্যস্ত কৃষকদের মধ্যেও চলে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। কোন দলের কোন প্রার্থী আসন্ন নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন, কিংবা কোন দল হতে পারে বিরোধী দল, কে কত সিট পাবে, এমন আলোচনা আর বিশ্লেষণে মুখরিত পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান। দেশ স্বাধীনের পর রাজশাহী-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটি এক সময় বিএনপি-জামায়াতের দুর্গ বলে পরিচিতি পেলেও ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বেবর্তমানে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী (নৌকা), বিএনএমের শামসুজ্জোহা (নোঙর), বিএনএফের আল-সাআদ (টেলিভিশন), তৃণমূল বিএনপির জামাল খান দুদু (সোনালী আঁশ), এনপিপির নুরুন্নেসা (আম), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বশির আহমেদ (ছড়ি), জাতীয় পার্টির শামসুদ্দীন (লাঙল), মাহিয়া মাহি (ট্রাক) ও গোলাম রাব্বানী (কাঁচি) প্রতীক বরাদ্দ পান। চা দোকানের

মালিক আব্দুল ও আয়ুব বলেন, কয়টা দিন তাদের দোকান বেশ জমজমাট থাকবে। যদিও মাঝেমধ্যে আমরা বলি, নির্বাচনী আলোচনা করবেন না। কিন্তু কে শোনে কার কথা! নির্বাচন নিয়েই এখন সবার আগ্রহ। তারা বলেন, যে দলই ক্ষমতায় যাক এমপি হিসেবে তারা ফারুক চৌধুরীকে চাই, কারণ চৌধুরী লোক ভাল তার সময়ে দালাল-চিটার নাই। ওই দোকানে বসা অটো চলক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তাগোর চিন্ত্যা নাই। যেই আসুক, তাগো কথা একটাই, জিনিসপত্রের দাম কমাইয়া দিবেন, খাইয়া-পইরা বাঁচতে চাই। তবে তিনিও বলেন, এমপি হিসেবে চৌধুরী ফিট তার কাছে চিটার-বাটপারের জায়গা নাই।

একইভাবে দিনমজুর রমজান আলী বলেন, ভুট দিয়া কী হইবো তাগো অবস্থার তো উন্নতি নাই। তয় এবার আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলেও বিএনপি নাই। আবারও যদি ২০১৮ সালের মতো ভুট হয়, ভালো হবি না। নাসির নামে এক যুবক বলেন, ‘আরে না, এবার নির্বাচন ভালো হবে। আওয়ামী লীগ বলছে, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সমস্যা নাই, তাই নির্বাচন জমবে। এসময় সিএনজি চালক আক্তার হোসেন বলেন, লড়াই হয় বাঘে-বাঘে, বাঘ-বকরিতে না, চৌধুরী তো বাঘ তার সঙ্গে লড়াই করার মতো কেউ নাই, যারা আছে তারা বকরি। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের তর্ক-বিতর্ক, অন্যদিকে চা দোকানির চা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ততা, শীত আমেজে বিকেলের পরিবেশকেই পাল্টে দিচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এবার নির্বাচনে ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে অন্যদের তুলনা করতেই নারাজ। কারণ হিসেবে বলছে, এমপি ফারুক চৌধুরী তার দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে তানোর-গোদাগাড়ী থেকে তিনি প্রতিদিন যদি ৫ জন করে মানুষের উপকার করে থাকেন, তাহলে ৩৬৫ দিনে ১৮২৫ জন এবং ২০ বছরে ৩৬ হাজার ৫০০ জন মানুষের সরাসরি উপকার করেছেন। তাহলে উপকারভোগী এই মানুষগুলো তো এখানো এমপির পক্ষে মাঠে আছে। এমপির জন্য জীবন বাজি রেখে তারা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

অথচ তার বিপরীতে গোলাম রাব্বানী দুইবার দলীয় মনোনয়নে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির দুর্বল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।এমনকি দলে সভাপতি পদ ধরে রাখতে ব্যর্থ ও মুন্ডুমালা পৌর নির্বাচনে পরাজিত হবার শঙ্কায় প্রার্থী হতে পারেননি। অন্যদিকে মাহীয়া মাহীকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে, এমপি নির্বাচনে বিজয়ী তো পরের কথা শক্ত প্রতিদন্দীতা করার মতো সামর্থ্য তার নাই। আর অন্যরা আলোচনাতেই নাই। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য এসব বিবেচনায় পরিক্ষিত ও আদর্শিক নেতৃত্ব ফারুক চৌধুরীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত।

এ জাতীয় আরও খবর
Translate »