1. smsitservice007gmail.com : admin :
তানোরে কথিত অভিযোগে যুবকের ওপর  বর্বর নির্যাতন - সতেজ বার্তা ২৪
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ? সাভারে মাদকের সয়লব , এক নজরে মাদক গ্যাং রাজশাহী আওয়ামী  প্রকাশ্যে বিভক্তির আভাস দায়ী কে ? তানোরে ৩টি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ভোলার লালমোহন উপজেলার ৭নং পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী তরুন মেধাবী যুবনেতা সাইফুল ইসলাম শাকিল তানোরে প্রবেশপত্র আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় ফিল্ম স্টাইলে কুপিয়ে দানিয়াল নামের এক যুবককে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা..! তানোরে দোকানের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা ২০ বছর পাড় হয়নি ধর্ষন, মাদক সহ ২৪টি মামার আসামি ইয়াবা সুন্দরীর ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার তানভীরের. রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে এক ডজন নেত্রী আলোচনায় মর্জিনা

তানোরে কথিত অভিযোগে যুবকের ওপর  বর্বর নির্যাতন

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৬২ বার পঠিত
প্রতীকি ছবি

রাজশাহীর তানোরে পরোকিয়ার কথিত অভিযোগে এক যুবককে আটক বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আইন হাতে তুলে নিয়ে এমন নির্যাতনে গ্রামবাসী বিশ্ময়ে হতবাক। গত ১৫ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের (ইউপি) ভাগনা মধ্যপাড়া গ্রামে এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে নির্যাতনের শিকার যুবক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা চরম সংকটাপন্ন।
জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের (ইউপি) ধুরইল পন্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত বারিক মন্ডলের পুত্র আরিফ হোসেন। আরিফের সঙ্গে মুঠোফোনের সুত্র ধরে তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের (ইউপি) ভাগনা এলাকার প্রবাসী জনৈক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে পরোকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এদিন প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে আরিফ গভীর রাতে তার বাড়িতে প্রবেশ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় ইউপি সদস্য সেলিম রেজা ও মধ্যভাগনা গ্রামের মৃত চান মোহাম্মদের পুত্র রনি ওই যুবক আরিফকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তার হাত-পা বেঁধে তাকে বেধড়ক পিটানোর এক পর্যায়ে সে মুর্ছা যায়। এদিকে খবর পেয়ে আরিফের স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করতে যায়। এসময় তাদের কাছে থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে রাতেই মেম্বার  সেলিম ও রনি রফাদফা করে জোরপুর্বক
গৃহবধুকে তার বাবা-মার হাতে তুলে দেন। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে প্রেমিক আরিফের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায়
তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। কিন্ত্ত তার অবস্থা চরম সংকটাপন্ন হওয়ায় রাতেই রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অপরদিকে প্রবাসীর স্ত্রী ওই গৃহবধূ  দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে রয়েছেন।
অপরদিকে এঘটনায় পুলিশ ও মেম্বার সেলিমের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে, ওই গৃহবধূর  ভাই বলেন, গভীর রাতে তার ভাবির ঘরে প্রবেশ করে ধুরইল মন্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত বারিকের পুুু্ত্র আরিফ। ঘরে প্রবেশের পর অনেক লোকজন জড়ো হয়। ঘরের খাটের নিচে ঢুকে যান আরিফ। টেনে হেঁচড়ে বের করার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে ক্ষত হয় এবং রক্ত বের হওয়া শুরু হয়। এসময় উত্তেজিত জনগণ কিল ঘুষি মারেন। পুলিশের হাতে না দিয়ে মারপিট করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান কারা কি ভাবে মেরেছে আমি বলতে পারব না। মেম্বার সবকিছু জানে বলে দায় সারেন।মেম্বার  সেলিম বলেন, সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং পুলিশও ছিল। আরিফের মাথা ক্ষত হয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এজন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর প্রবাসীর স্ত্রীকে তার বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। আপনি কিভাবে মিমাংসা করলেন ও আরিফকে বেধড়ক পেটানো হল কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি মিমাংসা করিনি, অনেকের কথায় ও প্রবাসীর দুই সন্তানের কথা বিবেচনা করে পিতা মাতার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে মারপিট ও মিমাংসার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। ধুরইল মন্ডিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবেশী ভ্যান চালক জানান, রাত প্রায় একটার দিকে আরিফের বড় ভাই আমাকে হাসপাতাল নিয়ে যান। গিয়ে দেখি আরিফের মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ দেয়া আছে। ডাক্তারেরা সাব জানিয়ে দেন রোগীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিতে হবে। সাথে সাথে ভ্যানে করে বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে আমি ত্রিমোহনী মোড়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গাড়ীতে করে রামেক হাসপাতালে নেয়। তিনি আরো বলেন,তানোর হাসপাতালে পুলিশ ছিল ও আরিফের মোবাইল নিয়ে জিম্মায় স্বাক্ষর করে পাঠায়। সরনজাই ইউপির এক মেম্বার বলেন, অপরাধ করতে পারে তাই বলে অমানুষের মত মারবে এটা কোন ধরনের কথা। আরিফের মাথায় অগনিত সেলাই পড়েছে। সেলাইয়ের জন্য ১৭শ টাকার সুতা কিনতে হয়েছে। সে আশঙ্কা জনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরিফের স্ত্রী জানান, সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে, রাতে যখন নিয়ে আসে কথাবার্তা কিছুই বলতে পারছিল না। আমাদের ঘরে পাঁচ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। এবিষয়ে তানোর থানার এসআই ফরিদ বলেন, রাত প্রায় একটার দিকে ওসি স্যারের নির্দেশে সরনজাই ইউপির ভাগনা গ্রামে যায়। সেখানে গিয়ে আরিফকে পায়নি। প্রবাসীর স্ত্রী ছিল। মেম্বারসহ লোকজন প্রবাসীর স্ত্রীকে পিতা মাতার হাতে তুলে দেন। তবে আরিফকে প্রচুর মেরেছে। কোন অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশকে পাঠানো হয়েছিল। এঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরও খবর
Translate »