1. smsitservice007gmail.com : admin :
গোদাগাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে - সতেজ বার্তা ২৪
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকের ডিগবাজি না’কি বিদ্রোহ? সাভারে মাদকের সয়লব , এক নজরে মাদক গ্যাং রাজশাহী আওয়ামী  প্রকাশ্যে বিভক্তির আভাস দায়ী কে ? তানোরে ৩টি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ভোলার লালমোহন উপজেলার ৭নং পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী তরুন মেধাবী যুবনেতা সাইফুল ইসলাম শাকিল তানোরে প্রবেশপত্র আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় ফিল্ম স্টাইলে কুপিয়ে দানিয়াল নামের এক যুবককে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা..! তানোরে দোকানের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা ২০ বছর পাড় হয়নি ধর্ষন, মাদক সহ ২৪টি মামার আসামি ইয়াবা সুন্দরীর ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার তানভীরের. রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে এক ডজন নেত্রী আলোচনায় মর্জিনা

গোদাগাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে

তানোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৫০ বার পঠিত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা দুলাল আলমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  হিসেবে যোগদান করেন। এর পর থেকেই  অফিসে না মানা, জাতীয় দিবস পালনে অনুপস্থিত ও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করাসহ  তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়াতে তার মনমানসিকতা ভালো না থাকায় সবকিছু একটু এলোমেলো হয়েছে। কিন্ত্ত শিক্ষকদের অভিযোগ  তিনি এসবকে পুঁজি করে অফিস ফাঁকি দিলেও  ব্যপক অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ ও শোকজ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রতিমাসে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষক-কর্মচারীদের। তার ঘুষ বাণিজ্যে শিক্ষক কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠনের সময় তিনি ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, কর্মচারী নিয়োগের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে বাধ্য করেন। নিয়োগ পাওয়ার পর ফাইল পাঠাতে শিক্ষক প্রধান, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এনটিআরসির শিক্ষক নিয়োগের ফাইল পাঠাতে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, নতুন কর্মচারী নিয়োগের পর ফাইল পাঠাতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এখানেই শেষ নয়, শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলের ফাইল পাঠাতে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, কর্মচারীদের ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বাধ্য করে ঘুষ নেয়া হচ্ছে। শূণ্যপদের প্রত্যয়ন নিতে গুনতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।এসব ঘুষের টাকা উত্তোলন করে থাকেন তার অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেন। উপবৃত্তির টিউশন ফি উত্তোলনে কথিত প্রত্যয়নের জন্য আনোয়ার ঘুষ আদায় করে থাকেন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।ওই অফিস সহকারির দাপটে শিক্ষকরা এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছে। ঘুষের টাকা ছাড়া কোন ফাইল নড়াচড়া করে না। এ ঘুষের টাকা না দিতে চাইলে অফিস সহকারি আনোয়ার শোকজ নোটিশ লিখে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করে ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা  দুলাল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন করা মাত্রই ফোন কলটি দ্রুত কেটে দেন। এবিষয়ে অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি স্যারের নির্দেশনায় এসব টাকা নিয়ে থাকি। স্যার নিজেই যার কাছে যেমন পারে তেমন ভাবে এসব টাকা পয়সা নেন। যখন মিটিং এ থাকে তখন আমাকে নিতে বলেন। এসব টাকা নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও এসব টাকা নেওয়া এক রকম নিয়ম হয়ে গেছে। শুধু এই স্যার না এর আগেও যারা ছিলেন তারাও নিয়েছে। এছাড়াও আয়া নিয়োগে উর্ধ্বতন মহল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন।এনটিআরসি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত লস্করহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার বেতনের জন্য শিক্ষা অফিসার দুলাল আলম প্রথমে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলো। পরে বলে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। আমাদের স্কুলের ৮ জন আবেদন করেছিলো মোট ১৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। টাকা ছাড়া তিনি কাজই করেন না। উপজেলায় যতগুলো স্কুলের শিক্ষক আবেদন করেছিলো সবার কাছে তিনি টাকা নিয়েছেন। একবার তিন মাসের বেতন বকেয়া ছিলো সেটির আবেদন করলে পুনরায় টাকা নিয়েছেন বলে জানান।হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষক বলেন, আমার উচ্চতর বেতন করার জন্য ৯ হাজার টাকা নিয়েছেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে ঘুরান। তাই হয়রানি হতে বাঁচতে বাধ্য টাকা দিতে হয়েছে।গত আগষ্ট মাসে অভায়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের তারিখ জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গেলো আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগ দেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগে দেওয়ার বিষয়টি রাজশাহী জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন বাসুদেবপুর এলাকার কুতুবুল আলম। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, গোদাগাড়ী উপজেলর অভায়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সারওয়ার জাহান ১৯৯৭ সালের পহেলা জানুয়ারী তারিখে যোগদান করেন। সে সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলো এইচএসসি পাশ। পরে সে বি.এ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারী মাসে বি.এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। বি.এ পরীক্ষার আগে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে পারে না।সহকারি প্রধান শিক্ষক সারওয়ার জাহান ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে তার নিয়োগের তারিখ পহেলা জানুয়ারী ১৯৯৭ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া বেতন বিলে তার নিয়োগের তারিখ পহেলা জানুয়ারী ১৯৯৭ লিখা আছে। কিছুদিন আগে থেকে সে তার নিয়োগের তারিখ জালিয়াতি করে ৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সাল লিখছেন। সে প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য জালিয়াতি করে তার নিয়োগের তারিখ পরিবর্তন করছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আয়া পদে সেলিনা খাতুন, নৈশ প্রহরী পদে শামীম ইসলাম ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সায়াদকে নিয়োগ দিয়ে প্রত্যেকের কাছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগে দিয়েছেন। সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক সারওয়ার জাহানকে স্কুলে না পাওয়ার অভিযোগে শোকজ দেন শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলম।পরবর্তীতে শোকজের সমাধান ও ৪ জনের বেতন ভাতার ফাইল পাঠাতে অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেন শিক্ষা কর্মকর্তার নাম করে হাতিয়ে নেন ৬৫ হাজার টাকা। চয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন জন কর্মচারী নিয়োগে দুলাল আলম হাতিয়ে নিয়েছেন ৯৫ হাজার টাকা। শূন্য পদে প্রত্যয়ন নিয়ে ৫ হাজার টাকা, বেতন ভাতার জন্য আলাদাভাবে ঘুষ নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহাফুল আলম তোতার সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তার সুসম্পর্ক থাকায় সবচেয়ে কমে ৬০ হাজার টাকায় ৩ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি এমপির নাম করে ৩ জন নিয়োগ প্রাপ্তদের নিকট হতে ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ললিতনগর শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের জন্য প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিবকে না জানিয়ে সভাপতি তরিকুল ইসলাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার ডেট করেন এবং তরিকুল ইসলাম শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়োগের জন্য ৯৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন। সভাপতি এককভাবে দুই প্রার্থীর নিকট হতে এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ২৬ লাখ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ নিয়োগ রেজুলেশনে স্বাক্ষর করছেন না। ফলে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।রাজবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, নৈশ্য প্রহরী, আয়া, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ মোট ৫টি পদের নিয়োগে শিক্ষা কর্মকর্তা হাতিয়ে নেন এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। টাকা কম দেয়ায় একবার তিনি নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি। পরে তিনি কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ বোর্ডের এক  লাখ টাকা অগ্রীম ঘুষ গ্রহন করে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হয়ে সোলেমানকে নিয়োগ দেন। হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন জন কর্মচারী নিয়োগে দুলাল আলম ৯০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন বলে ওই স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মীয় বিষায়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান। এ নিয়োগ অবৈধ দাবী করে আদালতে মামলা করেছেন সহকারি শিক্ষক  কবিরুল ইসলাম।প্রেমতলী সুকবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ ২ জন কর্মচারী নিয়োগ দুলাল আলম হাতিয়ে নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। নলত্রি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন কর্মচারী নিয়োগের এক লাখ ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন।

এদিকে বিড়ইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অবৈধভাবে সভপতি থাকার সুবাদে মজিবর রহমান নিজেই নৈশ্য প্রহরী, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া এ চার পদে কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার জন্য এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে ৫৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তা এ চারজন কর্মচারী নিয়োগ দিতে ঘুষ নিয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার টাকা।

রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের নিকট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  দুলাল আলমের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এসব অভিযোগ কেউ তাদের দপ্তরে দেয়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তারা।

এ জাতীয় আরও খবর
Translate »