1. admin@sotejbarta24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
কাতারের মসজিদগুলিতে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার
সংবাদ শিরোনাম:
কাতারে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোভিক-১৯ ভ্যাকসিনেশন সেন্টার কাতারের শুরা কাউন্সিল নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া অব্যহৃত রেখেছে কাতার সরকার সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সারাদেশে নোকিয়া মার্কেট এক্সপ্রেসে’র এর কর্মীরা। অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ছিনতাইকারী ও রিক্সা উদ্ধার কাতারে QID সংক্রান্ত অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার সুখবর ঘোষনা দিল কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতারে গতবছরের তুলনায় বহুগুণে বেড়ে চলেছে পর্যটকের সংখ্যা ফিফা ফুটবল কোর্টের বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির সদস্য রায়পুরায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২১ পালিত

 261 total views,  197 views today

সাভার সমাজসেবা কর্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা যাচ্ছে অলৌকিক নম্বরে: ভিডিও সহ দেখুন

মো: শামীম আহমেদ
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
  • ১৩৩ বার পঠিত

সাভার উপজেলা সমাজসেবা অফিসে দিনের পর দিন ঘুরেও ভাতার টাকা পাচ্ছেনা উপকারভোগীরা।(ভিডিও দেখুন) লকডাউনের মধ্যে দুর-দুরান্ত থেকে অতিরিক্ত টাকা ভাড়া দিয়ে এসে প্রচন্ড গরমের মধ্যে সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও মিলছেনা কাঙ্খিত সেবা। উপকারভোগীদের অনেকেই ভাতার টাকার জন্য ঘুরছেন ৬-৯ মাস ধরে। এসব টাকা উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা না হয়ে ভূতুড়ে অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাশিনতার কারনেই দুর্ভোগ বেড়েছে বলেও অভিযোগ ভোক্তভোগীদের।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক’শ উপকারভোগী নারী-পুরুষ ভাতা উত্তোলনের বই নিয়ে দাড়িয়ে আছে। একবার কর্মকর্তার কক্ষে আবার তার অধিনস্ত কর্মচারীর কক্ষে তো আবার আরেক কক্ষে। এভাবে তিনটি কক্ষের ভিতরেই লোকজন ভীড় করে রয়েছে। জায়গা না হওয়ায় অনেকেই বারান্দায় এবং আশপাশে অবস্থান করছে। কয়েকজন সংবাদকর্মী বিষয়টি দেখে এগিয়ে গেলেই ভুক্তভোগী উপকারভোগীরা নিজেদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বেচ্ছায় বলতে থাকেন।
আশুলিয়ার চারাবাগ থেকে আসা সত্তরোর্ধ মালেকা বেগম বয়স্কভাতার কার্ড হাতে এগিয়ে এসে অভিযোগ করেন, আমি অসুস্থ্য মানুষ। অনেকক্ষন দাড়িয়ে আছি আর পারছিনা এখনই পড়ে যাবো। নাম্বার ভূল হওয়ায় ৯ মাস ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা পাচ্ছিনা। দুই দিন আগেও দুইবার ঘুরে গেছি, আজকে আবারও আসছি। আমার বইয়ের নাম্বার ঠিক আছে কিন্তু অফিসের লোকজন নাম্বার ভুল করায় আমার টাকা দিচ্ছেনা।
পাশেই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছেন মনরা বেগম। আমিনবাজার থেকে তিনি কয়েকবার এসে ঘুরে ফেরত যান। মোবাইল নাম্বার ম্যাচ করায় তার ভাতার টাকা পাচ্ছেনা। সাভারের কাঞ্চনপুর থেকে বেদে ভাতা নেয়ার জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরছেন রহিমা বেগম। চার বছর তিনি ঠিকমতো ভাতা পেলেও গত একবছর ধরে ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। এখান থেকে বলে ব্যাংকে যেতে আর ব্যাংকে গেলে এখানে আসতে বলে। আমি এখন কোথায় যাবো?
পৌরসভার কর্নপাড়া থেকে এসেছেন ঝর্না আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, আমি মাত্র পনের’শ টাকা পাইছি এখনও তিন হাজার টাকা পাচ্ছিনা। ৮-৯ মাস ঘুরে পায়ের জুতা খয় করেও এখানকার কর্মকর্তাদের কোন সহযোগীতা মিলছেনা। আমার টাকা এখন কিভাবে পাবো? একই রকম অভিযোগ শতাধিক নারী-পুরষের। এভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন বয়স্কভাতা, প্রতিবন্দী ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার জন্য উপকারভোগীরা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাতার টাকা না পেয়ে অত্যন্ত কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সাভারের বনগাঁও এলাকা থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংরক্ষিত আসনের একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, আমার এলাকার প্রায় তিন শতাধিক লোকের মোবাইল নাম্বার ভূল করেছে কর্তৃপক্ষ। যে কারনে প্রায়ই তারা এখানে এসে ঘুরে যায় কিন্তু টাকা পায়না। তাদের কষ্ট লাঘব করার আমি নিজেও এখানে আসি সহযোগীতার জন্য। আমি মনে করি সমাজসেবা কর্মকর্তার গাফিলতির কারনেই অনেকের টাকা ভূল নাম্বারে চলে যাচ্ছে। যেহেতু তাদের ভুলের কারনে টাকা অন্যত্র চলে যাচ্ছে তাই এই দায় তাদেরকেই নিতে হবে।
জানতে চাইলে সাভার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শিবলীজ্জামান বলেন, দায় আমাদের এবং সমাধানও আমরা করবো। এই মুহুর্তে যাদের টাকা নাম্বার ভুলের কারনে অন্যত্র চলে গেছে তাদেরকে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে একটি আবেদন ফরম নিতে হবে। সেখানে সঠিক মোবাইল নাম্বার এবং যাবতীয় তথ্য পুরন করে জমা দিলেই আমরা সংশোধন করে দিবো। তা না হলে আবারও টাকা অন্যত্র চলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এই উপজেলায় প্রায় ২৮ হাজার উপকারভোগী রয়েছে। বর্তমানে অনলাই পদ্ধতি চালু হওয়ায় এবং সময় স্বল্পতার কারনে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দিয়ে ডাটা এন্ট্রির কাজ করা হয়েছে। সে সময় কিছু উপকারভোগীর নাম্বার ভূল হওয়ায় টাকা পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ভূল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়াদের তালিকা চেয়েছে। যেহেতু এটি একটি নতুন প্রোগ্রাম। এটা হয়তো কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি মনিটরিং করে দেখবে এবং বিষয়টি সমন্বয় করে সরকার কিছু টাকা ভর্তুর্কী দিতে পারে।
সবশেষে তিনি বলেন, সাভার উপজেলার ইউনিয়নগুলো চেয়ে পৌরসভায় ভুলের পরিমান বেশী। এখানে উপকারভোগী না পাওয়ায় আমি নিজে ১৫ দিন মাইকিং করিয়েছি। এরপরও উপযুক্ত ভাতাভোগী না থাকায় অন্য ইউনিয়ন থেকে এক হাজার ভাতাভোগী এনে সমন্বয় করা হয়েছে।

 335 total views,  2 views today

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর...

ফেসবুকে আমরা

English version»