1. admin@sotejbarta24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
কাতারের মসজিদগুলিতে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার
সংবাদ শিরোনাম:
কাতারে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোভিক-১৯ ভ্যাকসিনেশন সেন্টার কাতারের শুরা কাউন্সিল নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া অব্যহৃত রেখেছে কাতার সরকার সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সারাদেশে নোকিয়া মার্কেট এক্সপ্রেসে’র এর কর্মীরা। অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ছিনতাইকারী ও রিক্সা উদ্ধার কাতারে QID সংক্রান্ত অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার সুখবর ঘোষনা দিল কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতারে গতবছরের তুলনায় বহুগুণে বেড়ে চলেছে পর্যটকের সংখ্যা ফিফা ফুটবল কোর্টের বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির সদস্য রায়পুরায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২১ পালিত

 303 total views,  239 views today

মাদকমুক্ত তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ

মাহমুদুর রহমান মানিক
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ১১১ বার পঠিত

কলামিস্ট: বিশ্ব জুড়ে মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং দেশে দেশে সরকার প্রধানরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গুলোও রুখতে পারছে না মাদক সেবন ও ব্যবসায়। মাদক গ্রহণে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশের অবস্থান উপরের সারিতে আর ব্যবসায়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক বর্ডার গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এবং লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমান্তকে গোল্ডেন ট্রায়াংগেল নামে অবিহিত করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ভারত এসব দেশে রয়েছে মাদকের সুবিশাল অন্ধকার বাজার। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শহর, উপশহর এমনকি গ্রামেও হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের মতো মাদকদ্রব্য। মাদকের কালো মেঘ ঢেকে ফেলছে তারুণ্যের সম্ভাবনাময় সোনালী সূর্য। মাদকাসক্ততা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশকে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে। আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত মাদকের মধ্যে মারিজুয়ানা, অপিয়াম, প্যাথেডিন, কোডিন বা ফেন্সিডিল ও এটিএস বা ইয়াবা ট্যাবলেট অন্যতম। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এটিএস বা ইয়াবা ট্যাবলেট এবং পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও ইন্ডিয়া থেকে আসছে নেশার দ্রব্য। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৭০ কোটি টাকার মাদকজাত দ্রব্য কেনা বেচা হয়। আর ক্রেতা ও সেবনকারীদের অধিকাংশ তরুণ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। তারা মানসিক হতাশা কাটাতে ও শখের বশে ঝুঁকে পড়েছে মাদকের দিকে। শুধু তরুণ সমাজ নয় অবিভাবকের চোখ ফাঁকি দিয়ে সদ্য কৈশোরে উত্তির্ন স্কুল কলেজ পড়ুয়ারাও মাদক সেবন করছে এবং জীবন শুরুর আগেই স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিচ্ছে। আরো দুঃখের বিষয় মাদক সেবনকারীদের ৪০ শতাংশ বেকার এবং প্রায় ১৫ শতাংশ স্টুডেন্ট। এই ৫৫ শতাংশ মাদক সেবনকারী প্রতিদিন নেশার টাকা যোগাতে অন্যের উপর নির্ভরশীল বা চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে এবং দেশে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ছোট খাটো ক্রাইমের পাশাপাশি খুন খারাবীও বাড়ছে, অনেকে আবার মাদক গ্রহণ করতে করতে হয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী। এভাবে চলতে থাকলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হতে খুব বেশি দিন লাগবে না। যাদের চোখ নতুন কিছু জানার স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা যারা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, জাতির কর্ণধার হিসেবে যাদের বিবেচনা করা হয় সেই তরুণ সমাজ ডুবে যাচ্ছে মাদক নামক অন্ধকার জগতে। তরুণ সমাজের স্বপ্নের মৃত্যু মানে সামগ্রিক অর্থে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া।

মাদক একটি দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ইয়াবা নামক মরণ বিষ আমাদের দেশে আসছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এবং বর্ডার ক্রাস করে প্রতিদিন কয়েক লাখ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট দেশে আনতে সাহায্য করে কক্সবাজার, টাকনাফের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও উঠে আসে। টেকনাফের প্রায় ১৩০ টি গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের প্রধান পেশা ইয়াবা ব্যবসা। সাম্প্রতিক সময়ে শরনার্থী রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়ে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র পৌঁছে যাচ্ছে এবং হাত বাড়ালেই মিলছে এই মরণ বিষ। সম্প্রতি ইন্ডিয়া থেকেও আসছে যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক একটি খবর। যেখানে মিয়ানমার-বাংলাদেশ এর ২৮০ কিলোমিটার সীমান্তে ইয়াবা প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না সেখানে স্থল পথে ইন্ডিয়া থেকে মাদক দ্রব্য আসলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে।

২০১৮ সালে মাদক সম্পর্কিত ১৭ হাজার মামলা ও এবছর প্রায় ৩৬ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। দেশের ১৪৫ টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছে কিন্তু প্রতি বছর নতুন করে মাদকাসক্ত হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ। সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে এবং সংখ্যাটি দিন দিন বেড়েই চলছে। কঠিন হলেও বাংলাদেশকে মাদকের কালো অন্ধকার জগৎ থেকে বাঁচানো সম্ভব। মালেশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মত দেশও এক সময় মাদকের অন্ধকার জগতে নিমজ্জিত হয়েছিল তারা এখন এ অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে এসেছে। আমাদের দেশ ও যুব সমাজ রক্ষায় এ বিশাল সংখ্যাকে শূণ্যে নিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই। দৃষ্টি রাখতে হবে নতুন করে আর একটি তরুণও যেনো মাদকাসক্ত না হয়। সঠিক পরিকল্পনা, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা, দল মত নির্বিশেষে মাদকের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। মাদকসেবীদের পরিবার থেকে বিছিন্ন নয় বরং মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে যা সুপথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। দেশ, দেশের তরুণ সমাজ রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত ও মাদক সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করে দ্রুততার সাথে রায় ঘোষণা করতে পারলেই মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।

মাহমুদুর রহমান মানিক
শিক্ষার্থী
লোকপ্রশাসন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর...

ফেসবুকে আমরা

English version»